ঢাকা , বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬ , ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​যাত্রাবাড়ী পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজিঃ নিরব পুলিশ বাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৪-২১ ২৩:৫০:৫২
​যাত্রাবাড়ী পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজিঃ নিরব পুলিশ বাহিনী ​যাত্রাবাড়ী পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজিঃ নিরব পুলিশ বাহিনী


(ক্রাইম রিপোর্টার)

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় লেগুনা স্ট্যান্ডকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রের দৌরাত্ম্য থামছেই না। অভিযোগ রয়েছে, থানা ও র‌্যাবের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরও অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে চাঁদা আদায় করে যাচ্ছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আলী, নারায়ণগঞ্জ জেলা হালকা পরিবহন মালিক সমিতির যাত্রাবাড়ী-চিটাগাংরোড রুটের লেগুনা ও হিউম্যান হলার শাখার সহ-সভাপতি, জানান—গত প্রায় এক দশক ধরে “শিমরাইল এক্সপ্রেস লিমিটেড”-এর তত্ত্বাবধানে এই রুটে নিয়মিত পরিবহন পরিচালনা করা হচ্ছে।

তবে সম্প্রতি একটি সংঘবদ্ধ চক্র, যার নেতৃত্বে রয়েছেন মোঃ সাইফুল ইসলাম, জোরপূর্বক স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। অভিযুক্তদের মধ্যে তাইজুল ইসলাম সিকদার, উজ্জ্বল, হাসান, আরিফ, ওয়াশিম আকরাম, তরুণ, জসিমসহ আরও অজ্ঞাত ১০-১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, চক্রটি প্রতিটি লেগুনা থেকে দৈনিক ১৩০ টাকা, সাপ্তাহিক ৫০০ টাকা এবং মাসিক ১,৫০০ টাকা চাঁদা দাবি করছে। এতে অস্বীকৃতি জানালে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এমনকি বৈধ মালিক না হয়েও একটি ভুয়া মালিক সমিতি গঠন করে চাঁদা আদায়ের জন্য চার্ট প্রণয়ন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

মোহাম্মদ আলী বলেন, “চাঁদা না দিলে আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম আতঙ্কে আছি।”

তিনি আরও জানান, গত ১৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে যাত্রাবাড়ী থানা ও র‌্যাব-১০-এর সিপিসি-১ কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু অভিযোগের পরও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, যাত্রাবাড়ী থানার গেটের বিপরীত দিকেই প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় প্রকাশ্যে চাঁদা আদায় করছে চক্রটি, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এদিকে, মালিক সমিতির একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা-৫ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি এলাকায় চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতির কথা জানান এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে এর কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
মোহাম্মদ আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অজ্ঞাত কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা ব্যস্ততার অজুহাত দেন। এতে আমরা চরমভাবে হতাশ।”
যাত্রাবাড়ীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি চলতে থাকায় সংশ্লিষ্টদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপই পারে এই চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে—এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগীদের।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ